Workers of the World, Unite! / দুনিয়ার মজদুর এক হও!

A bilingual book in English and Urdu is an aesthetically beautiful thing. One script runs from left to right, the other the opposite way. In perfect symmetry the book splits in half, with the last pages of both versions meeting in the middle. Depending on which script you choose to read first, the back cover of that book is the front cover of the other language half.

 

But the symmetry can be deceptive, as it most certainly was in the case of the bilingual dock workers’ union booklet I encountered in the British East India Office archives in London. It may lead you to think that reading either version is enough to reveal the contents of the book to you. Language, however, is a tool of power, and militant labour union members in early twentieth century Bombay were clearly aware of the possibilities of using their knowledge of multiple languages against the machinations of an exploitative colonial state. For historians of multilingual societies, therefore, it is imperative to read beyond the language of government, with a careful eye to translation.

 

The Bombay Dock Workers’ Union was founded in 1931 by Dr. M. R. Shetty and Hansraj Gulati, and consisted primarily of stevedores who worked in the Bombay docks. The English cover of their constitution booklet is quite uninteresting. The Urdu cover however, reveals two interesting differences.

The two halves of the booklet were printed at different locations- the names of the presses therefore are different. While the English half was printed in Fort, the section of the city that housed Bombay’s elite- Europeans and Indians- the Urdu half was printed in Kamathipura, which was inhabited primarily by labourers. In 1931 the number of persons per acre in Kamathipura was 602, while that in Fort North was 163 and Fort South was 26 (Census of India 1931, Vol 9, Part I). Following the material history of the union rulebook itself, therefore, gives us a glimpse into the vastly unequal distribution of population and resources in twentieth century Bombay city.

Even more interestingly, the Urdu cover adds one extra line to the cover details. The line at the very top of the cover reads: Ay mazdooran-e alam ittefaq karo, or ‘Workers of the world, unite!’ That this rallying cry of labour movements worldwide, popularized from the last words of Marx’s Communist Manifesto, was omitted from the English cover was no accident. At a time when labour unions were treated with great suspicion and repression by the colonial government, the Bombay Dock Workers’ Union was among the most militant in Bombay. Not all unions in India at the time were communist, yet all unions and their activities were closely monitored. The fact that the rulebook of the Dock Workers’ Union ended up in a government file in London containing the rules and regulations of several other unions, associations and chambers of commerce based in Bombay, testifies to this very surveillance.

Screen Shot 2018-01-01 at 7.37.33 PMIn 1932 the Chief Presidency Magistrate sentenced M.R. Shetty, then President of the Dock Workers’ Union to a year’s imprisonment, along with two other labour leaders on charges of sedition and “creating class hatred”. Dr. Shetty was found guilty for addressing a May Day audience of about 600 workers, demanding “international independence” from capitalists and zamindars, and suggesting that India was being looted with the government’s knowledge. The calls made by the other convicted speakers allegedly included demands for a “Labourer’s Raj” to fight against imperialism, a general strike that would “cripple the capitalists” and Kisan Sabhas (peasants’ associations) that should follow neither Congress nor the Bengal revolutionaries but the principles enumerated by M.N. Roy, founder of the Communist Party of India. (Times of India, August 3, 1932).

Earlier in 1932 the Dock Workers’ Union had struck with a 1000 dock labourers protesting the use of middlemen in contracting their labour, claiming that they received only 25 percent of the wages due to them. The strike may not have been an immediate success, but the union kept playing a crucial role in organizing dock workers to demand more from their employers in future. By 1941 the very same Times of India that had decried the “Communist element” in 1932 for “intimidating” and “molesting” “loyal” workers at picket lines, was eager to describe the “evils” inherent in the system of recruiting stevedores through middlemen. The East India Cotton Association banned the system of using middlemen contractors (serangs and tindals) in 1939 and gave themselves thanks for the “initiative and courage shown by the Trustees” since “the mere elimination of the middleman [had] resulted in a rise of about 30 percent in the earnings of workers.” The work of the Bombay Dock Workers’ Union was therefore as crucial for Bombay’s labour movement as it was a cause of concern for the shipping companies and the government. Particularly threatening to the colonial government was the prospect of collaboration between striking dock workers and the Congress calling for a boycott of ships carrying British goods.

Screen Shot 2018-01-01 at 7.44.55 PM

Facing such a climate of repression, with the might of colonial law and police arraigned against their organizing activities, it is no surprise that the union should choose to leave any overt references to Communism out of its English rulebook. Despite the missing slogan, however, the language of the rules themselves made the political leanings of the union rather clear. Compared to the objectives of the National Seamen’s Union of India’s rulebook, for example (“to foster a spirit of unity, friendship, and self-help among the members” and to “help the working classes in India and outside”), the Dock Workers’ Union set themselves a more radical task of building class-consciousness (“to foster the spirit of solidarity and class consciousness amongst the workers through agitation and propaganda pointing out the identity of their interest” and “to help any movement that has for its object the welfare and advancement of the working class”).

The leadership of the Bombay Dock Workers’ Union was also interesting: in 1935 it ranged from men, both Hindu and Muslim, like M.R. Shetty, Deen Mohammad and Mohammad Ibrahim to women like Maniben Kara. Not only is the history of such unions- their organizers and members- grievously under researched, but so is the wider history of the dock workers, lascars and seamen of colonial Bombay. If the historian does not approach with an eye to the multilingual life inhabited by these workers and union leaders, the histories of the subject that we write will remain commensurately lacking.

If you are interested in learning more about the history of dock workers of Bombay, read Mariam Dossal’s essay ‘Godis, tolis and mathadis: dock workers of Bombay‘.

~

ইংরেজি ও উর্দুতে লেখা এই দ্বিভাষিক বইটি বেশ চমৎকার একটি জিনিস। লন্ডনে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া অফিসের আর্কাইভে এই ইউনিয়ান সংবিধানটি খুঁজে পাই। ইংরেজি লিপির টান বাঁ থেকে ডান দিকে, উর্দু লেখা ঠিক তার উল্টো। অবাক প্রতিসাম্যে বইটির দুই ভাগ- ঠিক মাঝখানে ইংরেজি ও উর্দু ভাগ দুটির অন্তিম পাতাগুলি মুখোমুখি। যদি ইংরেজি দিয়ে পড়া শুরু করেন, তাহলে বইটির পেছনের পৃষ্ঠাটি হচ্ছে উর্দু অংশের ফ্রন্ট কভার। উর্দু দিয়ে পড়া শুরু করলে ঠিক তার বিপরীত। সামনে-পেছনের অবিরত অদলবদল!

 

তবে এই প্রতিসাম্যে ঠকে যাওয়া সহজ। আপনি মনে করতে পারেন যে যে কোনো একটি সংস্করণ পড়াই যথেষ্ট- আরেক ভাষায় দ্বিতীয়বার একই বক্তব্য পড়া অপ্রয়োজনীয়। তবে সেই ভেবে শুধু ইংরেজি অংশটি পড়লে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আপনার চোখে পড়বে না। ভাষা কে ক্ষমতার এক যন্ত্র বলে চিনে, একাধিক ভাষার জ্ঞান প্রয়োগ করে শোষণমূলক ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রের দমনকে প্রতিহত করার নানান উপায় শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য ও নেতাদের রপ্ত ছিল। অতএব, বহুভাশিক সমাজের ঐতিহাসিকদেরও দায়িত্ব, শাসনের ভাষার মহাফেজখানা অতিক্রম করে বিভিন্ন প্রচলিত ভাষার চর্চা ও অনুবাদের প্রতি মনযোগী হওয়া।

 

১৯৩১ সালে বম্বের জাহাজ-ঘাটার কুলিদের শ্রমিক সঙ্ঘ হিশেবে, ডাঃ এম.আর. সেট্টি ও হান্স্রাজ গুলাটি দ্বারা, বম্বে ডক্‌ ওয়ার্কার্স ইউনিয়ান প্রতিষ্ঠাপিত হয়। এইটি সেই ইউনিয়ানের নিয়ম ও সংবিধানের বই। ইংরেজি ও উর্দু সংস্করণের আবরণ দুটি পাশাপাশি রেখে পড়লে, দুটি প্রধান পার্থক্য ধরা পড়ে।

বইটির দুই ভাগে ছাপাখানার নাম দুটি আলাদা। ইংরেজি অংশটি বম্বের ফোর্ট অঞ্চলে ছাপা হয়, যেখানে ছিল শহরের সব চেয়ে অভিজাত- ইউরোপীয় এবং ভারতীয়- শ্রেণীদের বাস। উর্দু অংশটি ছাপা হয় কামাঠিপুরার এক ছাপাখানায়, যে অঞ্চলে ছিল প্রধানত শ্রমিকদের বসবাস। ১৯৩১ সালের সেন্সাস অনুযায়ী কামাঠিপুরায় একর প্রতি জনসংখ্যার ঘনত্ব ছিল ৬০২ মানুষ, যেই সময় উত্তর ফোর্টের প্রতি একরে ছিল ১৬৩ জন মানুষের বসবাস এবং দক্ষিণ ফোর্টে মাত্র ২৬ জন। অর্থাৎ, বইটির উপাদান ইতিহাসের খোঁজ মাত্র থেকেই বিংশ শতাব্দীর বম্বে শহরে জনসংখ্যা ও সম্পদ বিতরণের ব্যাপক অসাম্যের ধারণা পাওয়া যায়।

দ্বিতীয়ত, উর্দু আবরণের লেখাগুলির মাঝে একটি বাড়তি বাক্য আছে। ইউনিয়ানের নাম, তার আইনি নিবন্ধন ও ছাপাখানার নামের উপরে আলাদা লেখা- এ মজদুরে আলম, ইত্তেফাক্‌ করো। অর্থাৎ, দুনিয়ার মজদুর এক হও! মার্ক্সের কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টোর শেষ শব্দগুলি থেকে অভিযোজিত এই বিশ্বপ্রিয় শ্রমিক আন্দোলনের স্লোগানটি ভুল করে ইংরেজি সংস্করণ থেকে বাদ পড়েনি। ঔপনিবেশিক সরকারের শ্রমিক সংগঠনের প্রতি কঠোর সন্দেহ ও জুলুমের পরিবেশে বম্বে ডক্‌ ওয়ার্কার্স ইউনিয়ান তাদের মিলিটেন্ট পরিচয় গড়ে তোলে। সেই সময় ভারতবর্ষের সব ইউনিয়ান সাম্যবাদী একেবারেই ছিল না, তবে রাষ্ট্র দ্বারা প্রতিটি ইউনিয়ানের কাজ নিরীক্ষণ করা হত। বম্বে শহরের অন্যান্য ইউনিয়ান, সংগঠন, ও বাণিজ্য সমিতির নিয়ম-বই সহ ডক্‌ ওয়ার্কার্স ইউনিয়ানের এই সংবিধানটি যে লন্ডন সরকারের ফাইলে গোছানো পাওয়া যায়, সেটিই হচ্ছে সরকারের নজরদারির লক্ষণ।

Screen Shot 2018-01-01 at 7.37.33 PM১৯৩২ সালে বম্বের চিফ প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেট, ইউনিয়ানের সভাপতি এম.আর. সেট্টি এবং দুই অন্য শ্রমিক নেতাকে রাষ্ট্রদ্রোহ ও “শ্রেণী ঘৃণা” সৃষ্টি করার দোষে এক বছর কারাবাসে দণ্ডিত করেন। রাষ্ট্রের অভিযোগ যে মে দিবসের বক্তৃতায় প্রায় ৬০০ শ্রমিকের সমাবেশকে উদ্দেশ্য করে ডাঃ সেট্টি ভারতবর্ষের লুণ্ঠনে রাষ্ট্রকে দায়ী করেন, এবং পুঁজিবাদী ও জমিদারদের থেকে “আন্তর্জাতিক স্বাধীনতার” দাবি জানান। বাকি দুই বক্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে তাঁরা সাম্রাজ্যবাদের বিরোধিতা করার জন্য “শ্রমিক রাজের” দাবি করেন, “পুঁজিবাদীদের বিকল করার” জন্য সাধারণ ধর্মঘট ও কৃষক সভার প্রয়োজন ব্যক্ত করেন, এবং কংগ্রেস ও বাংলার বিপ্লবীদের পথ ত্যাগ করে ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠাতা এম.এন. রায়ের নীতির অনুসরণ করে শ্রমিকদের চলার নির্দেশ দেন।

১৯৩২ এ, মে দিবসের কয়েক মাস আগে ডক্‌ ওয়ার্কার্স ইউনিয়ানের ধর্মঘটে প্রায় ১০০০ জন কুলি কাজ থামিয়ে, তাঁদের শ্রমের চুক্তি করার জন্য দালালের ব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান। তাঁরা বক্তব্য রাখেন যে যথোচিত মাইনের মাত্র ২৫ শতাংশ তাঁরা হাতে পান- বাকি সব যায় দালালদের কাছে। সেই যাত্রা স্ট্রাইকের দরুন তাৎক্ষনিক সাফল্য লাভ না করলেও, ভবিষ্যতে শ্রমিকদের অধিকার চেতনা ও শক্তি বাড়ানর কাজে এই ইউনিয়ানটি অতি গুরুত্বপূর্ণ এক ভূমিকা পালন করে। ১৯৩২ এ যেই টাইম্‌স অফ ইন্ডিয়ার পাতায় ইউনিয়ানের “কমিউনিস্ট উপাদান” দের পিকেট লাইনে বিশ্বস্ত শ্রমিকদের হুমকি দেওয়ার ও উৎপীড়িত করার অভিযোগে নিন্দা করা হতো, সেই খবরের কাগজেই ১৯৪১ সালে দালালি ব্যবস্থার অন্তর্নিহিত “অনিষ্ট” বৈশিষ্ট্যের বিবরণ দেখা যায়। ১৯৩৯ সালে ইস্ট ইন্দিয়া কটন অ্যাশোশিয়েসান অবশেষে সেরাং ও টিন্ডালের দালালি প্রথা বাতিল করে নিজেদেরকেই বাহবা দেন- দালালদের বিপদ দূর হওয়া এবং শ্রমিকদের আয় প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়ে যাওয়ার জন্য নাকি “ট্রাস্টিদের উদ্যোগ ও বাহাদুরি” দায়ী। বম্বের শ্রমিক আন্দোলনে বম্বে ডক্‌ ওয়ার্কার্স ইউনিয়ানের ভূমিকা প্রকাশ্যে স্বীকার না করলেও, সরকার ও জাহাজের কোম্পানি দুইই ইউনিয়ানের ক্ষমতা কে সীমাবদ্ধ করতে উৎসুক ছিল। ধর্মঘটের ঊর্ধ্বে তাঁদের বিশেষ চিন্তার কারণ ছিল কংগ্রেস বয়কটে জাহাজ-ঘাটা কুলিদের সহযোগিতার সম্ভাবনা।

Screen Shot 2018-01-01 at 7.44.55 PM

এই প্রকারের দমনের আবহাওয়ার মাঝে, ঔপনিবেশিক আইন ও পুলিসের ক্ষমতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে, ইউনিয়ানের ইংরেজি সংবিধানের বই-এ সাম্যবাদের প্রত্যক্ষ উল্লেখ না করাই স্বাভাবিক। তবুও, ইংরেজি সংস্করণে বিপ্লবী স্লোগান বাদ থাকা সত্ত্বেও, ইউনিয়ানের নিয়মের ভাষায় তাদের রাজনীতির পরিচয় স্পষ্ট পাওয়া যায়। উদাহরণ হিশেবে ন্যাশানাল সিমেন্স্‌ ইউনিয়ান অফ ইন্ডিয়ার সংবিধানের সঙ্গে তুলনা করুন: নাবিকদের ইউনিয়ানের বিবৃত উদ্দেশ্য হচ্ছে “ইউনিয়ান সদস্যদের মধ্যে ঐক্য, মৈত্রী, ও আত্মনির্ভরতার সম্পর্ক তৈরি করা” এবং “ভারতবর্ষে ও বাইরে শ্রমিক শ্রেণীকে সাহায্য করা”। তার তুলনায় বম্বে ডক্‌ ওয়ার্কার্স ইউনিয়ানের উদ্দেশ্যগুলি আরো কিছুটা শ্রেণী সচেতন ও আমূল: “শ্রমিকদের স্বার্থের একত্ব প্রকাশ্যে আনার আন্দোলন ও প্রচারণার মাধ্যমে শ্রমিকদের মধ্যে সংহতি ও শ্রেণী সচেতনতা গড়ে তোলা” এবং “শ্রমিক শ্রেণীর সমৃদ্ধি ও প্রগতির লক্ষে নিবেদিত সকল আন্দোলনের সাহায্য করা”।

 বম্বে ডক্‌ ওয়ার্কার্স ইউনিয়ানের নেতৃত্বের গঠনও একটি চর্চার বিষয়। ১৯৩৫ সালে একাধিক সম্প্রদায়ের পুরুষ এবং মহিলা মিলিয়ে ছিল ইউনিয়ানের নেতাদের দল- এম.আর. সেট্টি, দীন মোহাম্মেদ, মোহাম্মেদ ইব্রাহিম ও মিস্‌ মানিবেন কারা। এই প্রকারের বন্দর শ্রমিকদের ইউনিয়ান এবং আরো বিস্তৃত ভাবে বম্বে শহরের জাহাজ-ঘাটার কুলি, লস্কর ও নাবিকদের ইতিহাস ভীষণই অল্প অন্বেষিত। ইতিহাসের পাতায় এই শুন্য স্থানটি ভরার প্রয়োজন তো আছে বটেই। তার সঙ্গে ঐতিহাসিকের দায়িত্ব, বন্দর শ্রমিকদের ও ইউনিয়ান নেতাদের বহুভাশিক দুনিয়া ও আন্দোলনের ইতিহাসে ভাষা ও ক্ষমতার খেলার প্রতি সূক্ষ্ম মনোযোগ উৎসর্গ করা।

বম্বের বন্দর শ্রমিকদের বিষয়ে আরো জানতে চাইলে, মারিয়াম দোশালের লেখা ‘Godis, tolis and mathadis: dock workers of Bombay’ প্রবন্ধটি পড়তে পারেন।

 

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s