What’s in a seal?/ সীলমোহরে আছে কি?


Document with seal from a boundary dispute in Chota Nagpur. © The British Library Board, IOR/L/PS/6/549, Coll 43: Aug 1855-Dec 1866

It is rare in the British Library, London, for a file to be misnumbered. But it so happened that once while trying to study Bombay I found myself looking through a file of papers on Chota Nagpur, 1855-1866, due to a filing error. There, I encountered the above pictured seal from the Commissioner’s office, stamped on every page of a boundary dispute. But why is it interesting?

A seal not only serves the purpose of securely closing something (a letter or a good) but is also a stamp of authority, authorship or ownership. In fifteenth century England the king’s secret seal (the signet) and the privy seal were important enough that they were guarded by those closest to the king, his secretary and the keepers who travelled abroad with him, while in 1628 portraits of the Mughal Emperor Shah Jahan featured him holding the royal seal inscribed with his titles.

Shah Jahan with seal

Shah Jahan holding his seal engraved with his imperial titles, dated 1628. BM 1969.3-17.01. © Lasting Impressions,  British Museum and British Library



Seal of the Fishmongers of Bruges. Archives Nationales (Paris) F4757. © University of Notre Dame, Medieval Institute Library

From emperors to popes and qazis, fishermen’s guilds in medieval Europe to scribes and traders in nineteenth century Egypt, seals have been used widely by many since ancient times as stamps of authenticity and authority.

A seal stamp found on archival documents is therefore is not simply a symbol of power, a decoration, but also a source for studying where historical figures and institutions drew their authority and power from. The Mughal Emperor Shah Alam II’s seal (r. 1759-1806) for example, starts with an invocation of God at the top, and goes on to consecrate the emperor’s name in Persian amidst a constellation of the seals of his ancestors (see the fourteen little circles surrounding the large central circle?). Authority rests therefore not only in God, but also in the emperor’s illustrious genealogy. But now look at the English East India Company seal made during the reign of this same emperor- it tells us something more than the names of figures in whom authority is vested. It illustrates why language is an important tool of power. Why else would a British company issue a seal in the Persian language?

Shah Alam's seal

Genealogical seal of the Mughal emperor Shah Alam II, from an illuminated manuscript, dated 1173/1759


EIC seal

Silver seal of English East India Company, dated 1180/1766. BM 1970 3-9 1. © British Museum

In 1766 the East India Company was just a trading company with the unusual power to collect revenue from land granted to it by the Mughal sovereign. In this seal the company declares this power not in English, its native language of operation, but in Persian (nastaliqh script), the language of administration and power in Mughal South Asia, adopting the elaborate style of referring to selves and important others by grand titles: “The Honorable, the Chief of the Merchants, the English Company, Controller of Finance of the Noble Exchequer of the provinces of Bengal, Bihar and Orissa, humble servant of Shah ‘Alam, the Emperor and Warrior for the Faith” (English translation courtesy Lasting Impressions exhibition brochure, Annabel Teh Gallop, British Library and Venetia Porter, British Museum, 2010). Look closely at the topmost line on both seals. Even if you cannot read Persian, you may be able to note that both lines are identical. They read “Shah Alam Badshah e Ghazi”- the imperial title of Shah Alam. Interestingly, the date on the English Company seal is the Hijri date (1180) also used by Mughals at the time and not the Gregorian calendar the British used themselves (1766). In content, style and metaphor we have here a trading company closely imitating an emperor and a particular tradition of power.

Power lies therefore not only in whom you draw authority from, but in the language (and style) in which you speak. For example, in 1809 a compendium of linguistic directions to young Englishmen in India (Dialogues, John Gilchrist) instructed them to always address natives (all of whom appear in the work as servants) with brief commands. To address someone with “suno” and add single words like “plate” was more commanding than full sentences like “give me a plate”, which did not sound authoritative enough. In much the same way, this Chota Nagpur seal from 1854 uses language as a tool for enforcing relations of power.


Seal of Commissioner’s Office, Chota Nagpur, dated 1854. © The British Library Board, IOR/L/PS/6/549, Coll 43

The seal is inscribed in five languages- English, Bengali, Hindi, Oriya and Urdu. Writing about the languages spoken in the Chota Nagpur division (Bengal Province), the Imperial Gazetteer (1907) says that tribal populations (Santhal, Ho, Gond, Munda, Oraon) of the province were “gradually abandoning their tribal dialects in favour of … Hindi to the north and west, Oriya to the south and Bengali to the east, but a large number still [spoke] their own languages”. Persian was substituted by Urdu as the language of administration in the northern provinces of India in 1837. It is interesting that atleast in this section of the Bengal province Urdu seems to have been officially in use too. The most detailed part of the inscription on this seal is in Urdu and it reads (barring one word that is too faint to read), “San-é 1854 Eeswi, Kachheriye Sahib Commissioner, Chota Nagpur” (Year 1854 Christian era. Office of the Master Commissioner, Chota Nagpur).

Most interestingly however, while in English the post is named “Commissioner of Chota Nagpur”, in Hindi, Bengali, Persian and presumably Oriya too (I cannot read Oriya), it is named “Sahib/Shaheb Commissioner Chota Nagpur”. Just as the Englishman must never speak to the native in a polite sentence as one would with an equal, but always in the tone of command, the Indian must always refer to the Englishman in power in a tone of reverence, as “sahib” or “master”. Whatever be the official authorities and ideologies in which power may claim to locate its source, language was (and is) one of the essential means for the daily exercise of domestic and state power. Therefore, knowing a language was power, and using or refusing to use a language in a particular way could amount to a challenge of power.

If you would like to read more about the relation of power with language and its history in South Asia, read “Languages of Command and the Command of Language” by Bernard Cohn (note: full text is not available on Google books).

Before I end, many many thanks to Dr. Nandini Chatterjee, and my friend Zeinab Azarbadegan, for their kind and enthusiastic help in deciphering blurry Urdu and Persian inscriptions, and to Baba, for editing my Bengali text.



জমি তর্কের পাতায় সীলমোহরের ছাপ, ছোট নাগপুর, © ব্রিটিশ লাইব্রেরি বোর্ড, IOR/L/PS/6/549, Coll 43, ১৮৫৫-১৮৬৬।

লন্ডনের ব্রিটিশ লাইব্রেরিতে সাধারণত নথিপত্রের নম্বরে খুব একটা ভুল হয় না। তবে মাঝে মধ্যে নিশ্চই হয়, তাই এক দিন বম্বে শহরের কিছু কাগযের জন্য নিবেদন পত্র ভরে হাতে পেলাম একটি ছোট নাগপুরের ফাইল। সেই ফাইলেই দেখলাম ছোট নাগপুরের কমিসনর আপিসের এই সীলমোহরের ছাপ, একটি জমি তর্কের সরকারি কাগজের প্রতিটি পাতায়। তবে এই সীলমোহরটিতে আলোচনা করার মতন আছে কি?

সীলমোহর দ্বারা শুধু মাত্র যে খোলা জিনিশ (চিঠি বা মালপত্র) ছাপ সহ বন্ধ করা যায় তা নয়। প্রতিটি সীলমোহরে থাকে কারুর কর্তৃত্ব, কৃতি অথবা মালিকানার ছাপ। পনেরই শতাব্দীর ইংল্যান্ডে রাজার গোপন সীলমোহর (সিগনেট) ও রাজকীয় সীলমোহর থাকত কেবল রাজার ঘনিষ্ঠ মন্ত্রীদের জিম্মায়- সচিব এবং বিদেশ যাত্রায় রাজার রক্ষকদের কাছে; এদিকে ১৬২৮ সালে মুঘল সম্রাট শাহ জাহানের প্রতিকৃতিতে তাঁকে হাতে সীলমোহর সহ দেখা যায়।

Shah Jahan with seal

শাহ জাহানের হাতে বাদশাহি উপাধি সহ সীলমোহর, ১৬২৮। BM 1969.3-17.01 © ব্রিটিশ মিউজিয়াম ও ব্রিটিশ লাইব্রেরি


ব্রুজেসের মাছের ব্যবসায়ীদের সীলমোহর। Archives Nationales (Paris) F4757. © নটর ডাম বিশ্ববিদ্যালয়, মধ্যযুগীয় ইন্সটিটিউট লাইব্রেরি 

সম্রাট থেকে পোপ বা কাজি, মধ্যযুগীয় ইউরোপের মাছওয়ালাদের সংস্থা থেকে উনবিংশ শতাব্দীর মিশর দেশের লিপিকার ও ব্যবসায়ী অবধি, আদিম যুগ থেকে পৃথিবীর বহু লোক কর্তৃত্ব ও প্রামাণিকতার চিহ্ন হিসেবে সীলমোহরের উপযোগ করে এসেছে।

তবে আর্কাইভের পাতায় খুঁজে পাওয়া সীলমোহরের ছাপ ঐতিহাসিকের কাছে কেবলমাত্র একটি চিহ্ন বা অলঙ্কার নয়। সেগুলি ঐতিহাসিক ব্যক্তিদের ও প্রতিষ্ঠানের কর্তৃত্ব ও ক্ষমতার উৎস চেনার উপায়। যেমন দেখুন, মুঘল সম্রাট শাহ আলমের (১৭৫৯-১৮০৬) সীলমোহরে সব থেকে উপরে ঈশ্বর কে আবাহন করা; তারপর মাঝখানের বড় বৃত্তের ভেতের সম্রাটের নাম ও উপাধি ফারসি ভাষায় লেখা, ও সেটিকে ঘিরে চোদ্দোটি ছোট চক্রে তাঁর পূর্বপুরুষের নাম। অর্থাৎ, বাদশাহী আধিপত্যের অধিকারের উৎস বলে এইখানে দুটি জিনিশ চিহ্নিত- ঈশ্বর, ও সম্রাটের প্রসিদ্ধ বংশতালিকা। এই বার, ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সীলমোহরটি দেখুন, সেইটিতে কর্তৃত্ব দাতার নামের চেয়ে আরো বেশি কিছু জানা যায়। ক্ষমতার যন্ত্র হিশেবে ভাষার গুরুত্ব বুঝতে পারা যায়। তা না হলে একটি ইংরেজ প্রতিষ্ঠানের সীলমোহরে ফারসি ভাষায় লিপি কেন থাকবে?

Shah Alam's seal

রঙিন পাণ্ডুলিপি থেকে মুঘল বাদশা শাহ আলমের বংশতালিকা সহ সীলমোহর, সাল ১১৭৩/১৭৫৯।

EIC seal

ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির রুপোর সীলমোহর, সাল ১১৮০/১৭৬৬। BM 1970 3-9 1. © ব্রিটিশ মিউজিয়াম

১৭৬৬ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি পরিচয়ে একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান মাত্র হলেও, তাঁদের হাতে ছিল মুঘল সম্রাট দ্বারা প্রদত্ত জমি থেকে খাজনা আদায় করার অধিকার। এই অদ্ভুত ক্ষমতার ঘোষণা করেই এই সীলমোহরটি বানানো। তবে ঘোষণাটি তাঁদের ভাষা ইংরিজি তে নয়, মুঘল দক্ষিণ এশিয়ার প্রশাসন ও প্রতিপত্তির প্রধান ভাষা, ফারসি তে। মুঘল বাদশাদের মতনই মহান ও সম্প্রসারিত উপাধি সহ, ফারসি ভাষার নাস্তালিখ হস্তলিপি তে কোম্পানির নাম এবং অধিকার অঙ্কিত- “মাননীয়, মুখ্য ব্যাপারী, ইংরেজ কোম্পানি, বঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যা প্রদেশের উন্নত কোষাগারে অর্থ নিয়ন্ত্রক, সম্রাট ও বিশ্বাসের যোদ্ধা শাহ আলমের নম্র সেবক”। সীলমোহর দুটির উপরের লাইন গুলো মন দিয়ে দেখুন। ফারসি পড়তে না পারলেও বুঝতে পারবেন যে লেখা দুটি সম্পূর্ণ অভিন্ন। লেখা, “শাহ আলম বাদশা এ ঘাজি”- শাহ আলমের সাম্রাজ্জিক উপাধি। মজাদার বিষয় হল যে ইংরেজ সীলমোহরেও সেই কালের মুঘলদের মতন হিজরি পাঁজির তারিখ লেখা (১১৮০), ইংরেজ দের গ্রেগরিয়ান পাঁজি অনুযায়ী (১৭৬৬) নয়। অর্থাৎ পরিচয়ে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হলেও, কোম্পানির বক্তব্য, কায়দা ও ভাষার রূপক কিন্তু ঠিক সম্রাটের মতন, ক্ষমতার একটি বিশেষ প্রথার অনুকরণ।

ক্ষমতার উৎস তার মানে কেবলমাত্র কোন ব্যক্তিত্ব বা ঈশ্বরের নামে হয় না, কথা বলার ভাষা ও ধরনের মাধ্যমেও হয়। এই ধরুন ১৮০৯ সালে জন গিলক্রিস্ট “ডাইলগ্‌জ” Dialogues নামক একটি বই লেখেন, ভারতবর্ষে তরুণ ইংরেজদের সাহায্য করার উদ্দেশে। লেখক বলেন যে ভারতীয় “নেটিভ”এর সঙ্গে কথা বলার জন্য (তাঁর বইতে অবশ্যই এই নেটিভ রা সবাই চাকর) শুধু “সুনো” বা “শোন” শব্দে ডাকা উচিত। আর কিছু প্রয়োজন হলে এক কথায় হুকুম করা উচিত, পুরো বাক্যের প্রয়োজন নেই। কারণ “একটা প্লেট দাও” বললে যথেষ্ট শাসন-ক্ষমতা সম্পন্ন শোনায় না- “শোন! প্লেট!” বলাটাই ইংরেজ কর্তার পক্ষে বাঞ্ছনিয়। ঠিক সেই ভাবেই, ১৮৫৪ সালের ছোট নাগপুরের এই সীলমোহরটিও ক্ষমতার সম্পর্ক বাঁধিয়ে রাখার জন্য ভাষাকে যন্ত্র হিশেবে ব্যবহার করে।



কমিশনর দফতরের সীলমোহর, ছোট নাগপুর, সাল ১৮৫৪। © ব্রিটিশ লাইব্রেরি বোর্ড, IOR/L/PS/6/549, Coll 43

সীলমোহরটিতে পাঁচটি ভাষায় লেখা- ইংরিজি, বাংলা, হিন্দি, উড়িয়া ও উর্দু। ১৯০৭ সালের ইম্পেরিয়াল গ্যাজেটিয়ার এ লেখা আছে যে বঙ্গ প্রদেশের ছোট নাগপুর বিভাগের আদিবাসী জনগণের (সাঁওতাল, গোণ্ড্‌, হো, মুণ্ডা, ওরাওঁ) অনেকেই “ক্রমশ নিজেদের আদিবাসী উপভাষা ছেড়ে… উত্তর ও পশ্চিমে হিন্দি, দক্ষিণে উড়িয়া, ও পূর্বে বাংলা ভাষা ব্যবহার করে, কিন্তু তবুও অনেকেই নিজেদের ভাষায় কথা বলে।” ১৮৩৭ সালে ভারতের উত্তর প্রদেশগুলিতে প্রশাসনের ভাষা হিশেবে ফারসি ভাষার বদলে উর্দু ভাষার প্রচলন করা হয়। তবে সীলমোহরটি দেখে মনে হয় যে উত্তরের বাইরেও, অন্তত বঙ্গ প্রদেশের এই অংশে, ১৮৫৪ সালে উর্দুর সরকারী ব্যবহার ছিল। মোহরটির লিপির সব থেকে বিশদ অংশ হচ্ছে উর্দু ভাষায় লেখা (একটি শব্দ মাত্র স্পষ্ট পড়া যাচ্ছে না)- “সন-এ ১৮৫৪ ঈশভি, কাছেরি-এ সাহিব কমিশনর, ছোটা নাগপুর” (১৮৫৪ সাল খ্রীষ্টান যুগ, সাহেব কমিশনরের দফতর, ছোট নাগপুর)।

সব থেকে কৌতূহলের বিষয় এই যে ইংরিজি তে যেই পদটির নাম “কমিশনর ছোট নাগপুর”, বাংলা, হিন্দি, উর্দু, এবং খুব সম্ভবত উড়িয়াতেও (উড়িয়া ভাষা আমি পড়তে জানি না), সেই একই পদের নাম “সাহেব কমিশনর ছোট নাগপুর”। ভারতীয় প্রজার উদ্দেশ্যে ইংরেজের মুখে সমমর্যাদাপূর্ণ উপাধি মানানসই হয় না, কেবল হুকুমের স্বর উপযুক্ত বলে গেছেন গিলক্রিস্ট। ঠিক তেমনই ইংরেজ শাসক কে সম্বোধন করার জন্য ভারতীয় “নেটিভ” মালিকের দরজা দিয়ে “সাহেব” বলে ডাকবে, সেটাই প্রত্যাশিত। ক্ষমতার ধারক সরকারি ভাষায় যেই কর্ত্রীপক্ষ বা মতাদর্শকেই উৎস বলে জানাক না কেন, ভাষা হচ্ছে সরকারি ও গার্হস্থ্য ক্ষমতার দৈনন্দিন অনুশীলনের একটি অপরিহার্য যন্ত্র। সেই কারণেই, একটি ভাষা জানা মানে হচ্ছে ক্ষমতার ধারক হওয়া, এবং ভাষার নির্দিষ্ট প্রয়োগ করা বা না করার মাধ্যমে ক্ষমতার প্রতি আপত্তি জানানর রাস্তা।

দক্ষিণ এশিয়ায় ভাষা ও ক্ষমতার সম্পর্ক এবং ইতিহাসের প্রতি আরো কৌতূহল থাকলে, বার্নার্ড কোহ্ন এর “Languages of Command and the Command of Language” প্রবন্ধ টি পড়ুন (Google Books এ প্রবন্ধটির অংশ মাত্র পড়া যায়)।

শেষ করার আগে, দুরূহ ও অস্পষ্ট উর্দু এবং ফারসি লেখা পড়ায় সাহায্য করার জন্য ডাক্তার নন্দিনী চ্যাটার্জি ও আমার বন্ধু যেইনব আযারবাদেগান কে অনেক ধন্যবাদ, এবং বাবাকে, বাংলা লেখার সম্পাদনার জন্য। 


Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s